কিভাবে শুরু করবো ই-কমার্স বিজনেস ?

কিভাবে শুরু করবো ই-কমার্স বিজনেস ?

কিভাবে শুরু করবো ই-কমার্স বিজনেস ?

বর্তমানে আমাদের সবার মধ্যে একটি কমন প্রশ্ন ঘুরতে থাকে – কিভাবে শুরু করব ই-কমার্স বিজনেস ? এমনকি ফেসবুক এ আমার আইডির মেসেজ বক্স এ অনেকেই এই প্রশ্ন করে থাকে। তাই সে প্রশ্নগুলোর আলোকে একটু সংক্ষিপ্ত আকারে আজকের লেখায় উপস্থাপন করলাম।

১. সর্বপ্রথম নিজেকে প্রশ্ন করুন- আপনি কেন বিজনেস করতে চান?

যে কোনো কাজের জন্য লক্ষ্য উদ্দেশ্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার যদি লক্ষ্য ঠিক না থাকে তাহলে আপনি হচ্ছেন গন্তব্যহীন। তাই আপনি কেন ব্যবসা করবেন? এই প্রশ্নের জবাব আপনাকেই দিতে হবে। অমুক ব্যবসা করতেছে, তমুক ভালো কামাচ্ছে, এটা আপনার ব্যবসায় আসার কারণ হতে পারে না। ব্যবসা করার জন্য প্রথমে আপনার মানসিক দৃঢ়তা থাকা চাই। ব্যবসা কোনো শখ বা ফুটানি নয়। এটা একটা স্বপ্ন, প্যাশন এবং ইবাদাত, যদি আপনি তা সঠিকভাবে করেন। মনে রাখবেন ব্যবসায় নামতে হলে আঁট সাঁট বেঁধে নামতে হবে। আপনি নাচতে নামবেন আবার ঘোমটাও দিবেন সেটা তো হতে পারে না।

২. কেন ই-কমার্স বিজনেস করতে চান ?- এই প্রশ্নের উত্তর জেনে নিন নিজের কাছ থেকে।

বিজনেস করবেন ভালো কথা, ই-কমার্স কেন করতে হবে? আরওতো অনেক মাধ্যমে আছে। আর ই-কমার্স করার জন্য শুধু এই কয়েকটা কারণই যথেষ্ট নয় যে- বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ, সবাই এই দিকে ঝুঁকছে,তাই আপনাকেই করতে হবে। বরং এগুলোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি নিজে কতটা ই-কমার্স বোঝেন। আপনি যদি মনে করেন ই-কমার্স মানে একটা পেজ বা সাইট খুলে পন্য বেচাকেনা করা, তাহলে বলব আপনার ই-কমার্স ব্যবসা করার দরকার নেই। আপনি কতটা প্রযুক্তি বোঝেন আর ই কমার্স সম্পর্কে জানেন, তা বুঝতে হবে। তারপর ই-কমার্স সম্পর্কে বেসিক ধারণাতো অবশ্যই থাকা প্রয়োজন।

৩. ব্যবসার কেটাগরি ও পন্য ঠিক করুন এবং সেই সাথে ভাবুন আপনার টার্গেট অডিয়েন্স কারা হবে?

যদি ই-কমার্স ব্যবসা করবেন বলে মনস্থির করেন। তাহলে সবার আগে এই দুটি বিষয় আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। আপনি কি পন্য বা সেবা বিক্রয় করবেন আর তার ভোক্তা কারা হবে। কারণ এর উপরই নির্ভর করবে আপনার অন্যান্য সিদ্ধান্ত, মানে আপনার ব্যবসার নাম, ঠিকানা ও মার্কেটিং ও কৌশলগত প্লান।

৪. এবার ব্যবসার নাম, স্লোগান, পেজ, ডোমেইন নিয়ে নিতে পারেন।

যদি উপরের প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার কাছে দ্বীধাহীনভাবে থাকে তাহলে এই কাজগুলো আপনার সহজ হবে। আপনার পন্য বা সেবার ধরণ ও আপনার ভোক্তা শ্রেণীর রুচি অনুসারে একটি নাম ঠিক করুন, একটি ট্যাগ লাইন দিন, একটি পেজবুক পেজ বানান এবং একটি সুন্দর ডোমেইন নিয়ে রাখুন।

৫. আপনার ব্যবসার জন্য পুরো একটি প্লানিং করে নিন।

প্লানিং ছাড়া কোনো কাজ করা যায় না বা করা উচিৎ ও না । আপনার পন্য সেবা নাম ধাম ঠিক হওয়ার পর আপনি এবার বিস্তারিত একটি পরিকল্পনা সাজান। এটা হলো আগামী ২ বছরের একটি প্লান। এর মধ্যে প্রতি কোয়ার্টারে আপনি আপনার কোম্পানীকে কোথায় দেখতে চান এবং সেজন্য আপনার করনীয় কি সেটা আপনি ঠিক করে ফেলুন এবং সে অনুযায়ী কাজ করুন। এটা ২ বছরের প্লান হলেও প্রতিটি সপ্তাহ ও মাস এর রিপোর্ট ডিটেইল থাকা চাই। আর এই ২ বছরের কর্ম পরিকল্পনার উপর ডিপেন্ড করবে পরবর্তী ৫ বছরের প্ল্যান।

৬. ফেসবুকের পেজের মাধ্যমে ব্যবসাটা শুরু করে দিতে পারেন।

যারা মূলত ওয়ানম্যান আর্মি তারা প্ল্যানিং তৈরীর পাশাপাশি ফেসবুক পেজ এর মাধ্যমে ব্যবসাটা শুরু করে দিতে পারেন। ছোট পরিসরে শুরু করে দিলে প্রাথমিকভাবে আপনি এর কিছু সম্ভাবনা ও সমস্যা সম্পর্কে আগেই ধারণা লাভ করতে পারবেন। বিশেষ করে যাদের বিনিয়োগ কম তাদের জন্য এটা খুব ভালো হবে।

৭. অফিস এড্রেস, ট্রেড লাইসেন্স, ওয়েবসাইট ও এমএফএস নিতে পারেন।

যদি আপনি চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন যে, আপনি ব্যবসাটা করছেন তাহলে এবার আপনাকে কাজে নেমে যেতে হবে। আর কাজগুলো হলো লিগ্যাল ডকুমেন্টস, যেমন- ট্রেড লাইসেন্স, একটি অফিস এড্রেস ও অবশ্যই একটি বিকাশ, রকেট, নগদের মতো একটা পেমেন্ট মুড ঠিক করে নিন এবং সেই সাথে প্রোডাক্ট সার্চিং করে কাজটা শুরু করে দিন।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *