ই-কমার্স বিজনেস এ ক্রেতার আস্থা বাড়াতে করণীয়

ই-কমার্স বিজনেস এ ক্রেতার আস্থা বাড়াতে করণীয়

ই-কমার্স বিজনেস এ ক্রেতার আস্থা বাড়াতে করণীয়

ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসায় প্রতিনিয়ত পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ই-কমার্সের এই উন্নতি কিছু সুযোগ সন্ধানী মানুষের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা অনলাইন যোগাযোগ ও দূরত্বের সুযোগ নিয়ে কখনো ক্রেতাকে কখনো বিক্রেতাকে ঠকানোর চেষ্টায় রত। যখন কোথাও ভালো ভাবমূর্তি তৈরী হয়। তখনি দূস্কৃতিকারীগণ মাথাছাড়া দিয়ে উঠে। যেমন করে কিছু মানুষ সুন্দর জুতা পরে মসজিদে নামায পড়তে যায় বলে জুতা চোররা মুসল্লি সেজে মসজিদে জুতা চুরি করতে যায়।

কিন্তু কথা হলো, ই-কমার্সে যেমন ক্রেতা বিক্রেতা পর্দার আড়ালে থাকে বলে প্রতারণা হতে পারে তেমনি তথ্য-প্রযুক্তির কারণে এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে। আর আমরা চাইলে কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের ই-কমার্স শপকে ক্রেতার কাছে বিশ্বস্থ ও নিরাপদ করে তুলতে পারি।

তাহলে জেনে নেয়া যাক– কি কি হবে সে পদক্ষেপ

১। নিয়ম মেনে ব্যবসা শুরু করা

আমরা অনেকে ব্যবসা শুরু করার সময় নুন্যতম প্রস্ততির বিষয়টি মাথায় রাখিনা। দেশের আইন বলছে, আপনি যদি রাস্তায় বসে হাতপাখাও বিক্রি করেন তবুও আপনার ট্রেড লাইসেন্স নেয়া উচিত। তাই আমাদের উচিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করা। স্থানীয় কতৃপক্ষ থেকে আইটি, আইটিইএস, আইসিটি, সাপ্লায়ার যেকোনো ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

২। পেজকে পূর্নাঙ্গ ও নিয়মিত করুন

পেজবুকের আনুসঙ্গিক সব তথ্য পূরণ করে দিন। কোনো অপূর্নতা সন্দেহজনক মনে হতে পারে কাস্টমারের কাছে। নিয়মিত পোস্ট দিন। পোষ্টের সাথে ছবি ইমেজ দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য লিখুন। যাতে পোস্টটিতে পাঠকের প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তরগুলো পাওয়া যায়। এছাড়া ইনস্টাগ্রাম, লিংকড ইন, ট্যুইটার অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পেজ খুলতে ভুলবেন না।

৩। শুধু ফেসবুক নয় ওয়েবসাইটও প্রয়োজন

অনেকে শুধু ফেসবুক দিয়েও ব্যবসা করছেন আবার ওয়েবসাইট থাকলেও বাংলাদেশে মূলত অনলাইন কাষ্টমার আসে এখনো ফেসবুক থেকে। তাই আপনি যদি হন একজন অনলাইন উদ্যোক্তা তাহলে আপনার ওয়েবসাইট থাকা দরকার। ওয়েবসাইট আপনাকে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি দেবে তেমনি দেবে কাস্টমারের আস্থা।

৪। তথ্যের ব্যাপারে স্বচ্চতা

আপনার ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট, লেটার হেড, বিজনেস কার্ড সবকিছুতে কিছু সাধারণ তথ্য তুলে ধরতে ভুলবেন না। ক্রেতা হয়তো আপনার অফিসে যাবে না। কিন্তু ক্রেতার মনে আপনার অফিসের ঠিকানা, ফোন নাম্বার, ই-মেইল এড্রেস, গুগল ম্যাপ এসব দেখে আস্থার জায়গা তৈরী হবে।

৫। ইতিবাচক সাড়া

যখনি কোনো ক্রেতা আপনার পেজের কোনো পোস্টে কোনো ধরনের কমেন্ট করবে। তাকে ধন্যবাদ দিন। পন্য সম্পর্কে আরো তথ্য শেয়ার করুন। মেসেঞ্জারে কেউ কিছু জানতে চাইলে দ্রততম সময়ের মধ্যে প্রশ্নের উত্তর দিন। বিশেষ কোনো ফিচার থাকলে, ক্রেতা জানতে না চাইলেও সেটা বলতে পারেন। এভাবে আপনি একটা ক্রেতার সাথে সম্পর্ক তৈরী করে আস্থা বাড়াতে পারেন।

৬। ডিজিটাল মার্কেটিং ও কাস্টমার ডেটাবেজ

আপনি যেহেতু অনলাইনে ব্যবসা করবেন বা করছেন তাই আপনার প্রয়োজন হবে ফেসবুক মার্কেটিং ছাড়াও এসএমএস, ই-মেইল ও টেলিমার্কেটিং সেবা নেয়ার। আর এই সেবাগুলোর জন্য আপনার প্রয়োজন হবে কাংখিত ক্রেতার কন্টাক্ট তথ্য। সেজন্য যেসব ক্রেতা আপনার প্রতিষ্ঠান থেকে পন্য ক্রয় করছে তাদের তথ্য সংরক্ষন করুন। তারা যদি সন্তুষ্ঠ থাকে। তাহলে ভবিষ্যতে আপনি তাদেরকে যেকোনো অফার দিলে তারা ক্রয় করতে আগ্রহী হবে।

৭। পন্য সংক্রান্ত তথ্য

আমরা বেশীরভাগ সময় পেইজে ও ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র পন্য বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্যই শেয়ার করি। কিন্তু ক্রেতা সাধারণের খুব কম সময়ে এইসব তথ্য আগ্রহ থাকে। তারচেয়ে বরং আমরা পন্যটি কিভাবে ব্যবহার করা যায়? কিভাবে ব্যবহার করলে সহজে নষ্ট হয়না। এধরনের টিপস জাতীয় তথ্য দিয়ে লেথা ও ভিডিও পোস্ট করলে তাহলে ভোক্তা আপনাকে বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে, আপনি ভোক্তাদের ঠকাতে চান না।

৮। দৃশ্যমান উদ্যোগ

ক্রেতার আস্থা বাড়াতে দৃশ্যমান উদ্যোগ খুব কার্যকর। একটি দৃশ্যমান শোরুম অথবা  সাজানো একটি স্টুডিও মতো প্রেজেন্টেশান রুম যেখান থেকে আপনি লাইভে পন্য দেখানো বা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন। ফ্যাশন পন্যে এটা বেশ কার্যকর উপায়।

৯। আফটার সেল কন্টাক্ট

আমরা পন্য বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকি। আর মনে করি পন্য বিক্রি মানে কাজ শেষ। বাস্তবতা হলো কাস্টমার একটা পন্যের সাথে আসলে একটা সেবা কিনে। যেমন একটা টুথব্রাশ কেনা মানে অন্তত কয়েকমাস দন্তসেবা কেনা। তাই আপনার পন্যটি বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর আপনি যদি কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ করেন এবং জানতে চান পন্যটি কেমন ছিলো তাহলে আপনার ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরী হবে।

১০। পোস্ট এড

প্রি-এডের চেয়ে পোস্ট এড কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি পন্য বিক্রির পর আরো একটি পোস্ট দিয়ে যদি জানিয়ে দেন আপনার কতোগুলো বিক্রি হলো কিংবা আপনার পন্য কিনে কনজ্যুমার কতটা খুশি। এটা জানলে অন্য গ্রাহকেরা ধীরে ধীরে আপনার পন্য ও সেবার প্রতি আগ্রহী হবে উঠবে।

 

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *