উদ্যোক্তাদের যে কথাগুলো না জানলেই নয়

উদ্যোক্তাদের যে কথাগুলো না জানলেই নয়

উদ্যোক্তাদের যে কথাগুলো না জানলেই নয়

“ও মা! দাম তো অনেক বেশি”

“এই জিনিসের দাম কি এত?”

“একটু কমান।”

“আরো অনেক পেইজে আপনার থেকে কম রাখে!”

“থাক,কি আর করার! দাম কমালেন না দেখে নিতে পারলাম না।”

অনলাইন কিংবা অফলাইনে ব্যবসা করছেন অথচ এই কথা গুলোর সাথে পরিচিত না,,,তা কি হয়??? প্রতিদিন অন্তত একবার হলেও এসব কথা প্রতিটি মার্চেন্ট কে শুনতে হয় আর এ ধরনের কথা শুনলে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কনফিডেন্স টা একটু LOW হয়ে যায়।

আমরা নিজেরাই ভাবতে শুরু করি,,আমি কি অনেক বেশি দাম রাখছি?

চলুন শুরু তে জেনে নেই এসব কথার জবাব কখনোই যেমনটি হওয়া উচিত না-

🔹 ঘাবড়ে যাবেন নাঃ

যদি কেও বলে আপনার প্রডাক্ট গুলোর দাম খুব বেশি (আপনি অবশ্যই মার্কেট এনালাইসিস করেই প্রাইস সেট করেছেন) ঘাবড়ে গিয়ে সাথে সাথেই দাম কমিয়ে দিবেন না,,তাহলে ক্রেতা ধরেই নিবে আপনি অনেক বেশি দাম চেয়েছিলেন,,,আসলে দাম এত না। বরং কথা এগিয়ে নিয়ে যান,, আপনার ক্রেতা কি চায় তা বোঝার চেষ্টা করুন। অনেকে ব্র‍্যান্ড বোঝে না, আপনার প্রডাক্টের ভ্যালু বোঝে না,, স্বভাবতই তারা দামাদামি শুরু করে,,,একবার তাদের কথায় সায় দেওয়া মানেই নিজের ব্র‍্যান্ড ভ্যালু কে কমিয়ে ফেলা।

🔹 নিজেকে বেশি ব্যাখ্যা করতে যাবেন নাঃ

দিনের শেষে, এটি আপনার ব্যবসা।  আপনি না চাইলে আপনাকে এসবের জন্য কৈফিয়ত দিতে হবে না। ক্রেতার যেমন দাম নিয়ে আপত্তি জানানোর অধিকার রয়েছে, তেমনি আপনারও নিজের কস্টিং অনুযায়ী দাম চাওয়ার অধিকার আছে (একটি জিনিস বারবার বলছি,,অবশ্যই আপনার প্রডাক্টের মূল্য মার্কেট উপযুক্ত হতে হবে)।

🔹 ক্রেতার কথা গুলো কে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন নাঃ

দাম নিয়ে আপত্তি জানানো ব্যবসারই একটি অংশ,তাই এটিকে ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না। এটা ভাববেন না ক্রেতা আপনার সম্পর্কে কিছু ভালমন্দ ভাবছে। যদি কখনোই কেও আপনাকে না বলে থাকে যে আপনার প্রডাক্টের দাম খুব বেশি,  তাহলে বুঝে নিতে হবে আপনি ভুল পথে হাঁটছেন,,এবং আপনার প্রডাক্ট আপনি আসলেই কম দামে বিক্রি করছেন!!! ( খুশি হওয়ার কিছু নেই,, আপনি ক্রেতা কে খুশি করতে গিয়ে নিজের লাভের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন!)

কিভাবে এসব কথার উত্তর দেওয়া উচিত-

🔹 কথা চালিয়ে যানঃ

আপনার সার্ভিস বা প্রডাক্ট এর দাম বেশি – এটি বললে কি ক্রেতার সাথে আপনার আলাপ সেখানেই শেষ হয়ে যায়?

ভুল করছেন,,,ক্রেতা দাম নিয়ে কথা বলেছে মানে সে আপনার কাছ থেকে জিনিস টি কিনতে আগ্রহী,, কিন্তু সে দ্বিধা দ্বন্দ্বে আছে। সেটি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করুন,,তার আস্থা অর্জন করতে পারলেই কাজ হয়ে যাবে। অবশ্য অনেক ক্রেতা না কেনার অযুহাত হিসেবে দাম বেশি কথা টা বলতে খুব পছন্দ করে, তারা কিন্তু বাস্তবে আপনার ক্লায়েন্টই না।

যাই হোক, আপনার ক্লায়েন্টকে নমনীয়তার সাথে কিছু প্রশ্ন করলেই আপনি বুঝে যাবেন সে আপনার potential buyer কি না।

🔹 মেনে নিন আপনি বেশি দাম রাখছেনঃ

কি বিক্রি করছেন? কোথা থেকে আনছেন?

কোয়ালিটি কেমন?

হাতে তৈরি জিনিসের ক্ষেত্রে,, এই জিনিস টি ক্রেতা আর কোথাও পাবে কি না?? ডিজাইন টি কতখানি ইউনিক??

সার্ভিসের ক্ষেত্রে,, আপনার কাজের কোয়ালিটির ওপর ভিত্তি করে অবশ্যই আপনি দাম বেশি রাখার অধিকার রাখেন। ডিজাইনার দের ক্ষেত্রে এটি খুব বেশিই প্রযোজ্য।

তারা হয়তো আপনার অফারগুলির মান / সুবিধা বুঝতে পারে না। আপনার কাজের মূল্য কি, সেটা ক্রেতা কে বুঝিয়ে দিন, যারা সেই মূল্যেরই পণ্য বা সেবা চায়, তারা কখনোই দাম কমাতে আসবে না।

🔹 ভাবুনঃ

নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন- “সে কি সত্যিই  আমার ক্লায়েন্ট?”  যদি তা না হয় তবে কথা বাড়াবেন না। তাদের কে কোমল ভাবে জানিয়ে দিন আপনার প্রডাক্টের/সার্ভিসের কোয়ালিটি অনুযায়ী এর থেকে কমে বিক্রি করা আপনার পক্ষে সম্ভব না।

🔹 তাদের বাজেট কী তা জিজ্ঞাসা করুনঃ

আর যদি বুঝতে পারেন যে, সে সত্যিকার অর্থেই আগ্রহী,  তার বাজেট জানার চেষ্টা করুন, হয়তো তার বাজেটের কোন প্রডাক্ট আপনার কাছেই থাকতে পারে,তা তাকে দেখিয়ে দিন। সার্ভিসের ক্ষেত্রে (আমি একটি উদাহরণ ব্যবহার করে বলছি) ধরুন আপনি লোগো ডিজাইনার,,,আপনি কেমন ধরনের কাজ করেন,, আপনার কাজের যোগ্যতার সাথে ক্লায়েন্টের বাজেট নাই মিলতে পারে,, আপনি তখন তাকে এমন কাও কে রিকমেন্ড করে দিন যে লো বাজেটে কাজ করে। এবং কাজ টি খুব আন্তরিকতার সাথেই করুন। এটুকু সাহায্য করাই যায়।

এতে করে এই ক্রেতা আপনাকে মনে রাখবে, আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে এবং আপনার কথা আরো দশজন কে বলবে। আপনার কিছু ইনডিরেক্ট মার্কেটিং ও কিন্তু হলো!

পাঠক,,,আপনারাও নিশ্চই এরকম পরিস্থিতি নিজেদের মত করে সামাল দেন?

উপরের পয়েন্টের বাইরেও যদি কোন কৌশল আপনি অবলম্বন করে থাকেন,,আমাদের অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *