ই-কমার্সে প্রোডাক্ট প্যাকেজিং

ই-কমার্সে প্রোডাক্ট প্যাকেজিং

ই-কমার্সে প্রোডাক্ট সেল এর জন্য প্রোডাক্ট প্যাকেজিং অনেক জরুরী। অনলাইনে কেনা-কাটা করা গ্রাহকদের জন্য অনেকটা সারপ্রাইজ পাবার মত, একটা উপহার পাবার মত। আপনি হয়তো খুব ভালো একটি প্রোডাক্ট বানিয়েছেন বা ভালো কোয়ালিটির জিনিশ দিচ্ছেন। কিন্তু প্যাকেজিং যদি ভালো না হয়, তবে ক্রেতারা ভেবে নিতেই পারে যে প্রোডাক্টও হয়তো ভালো হবে না। অনেকে আছেন ব্র্যান্ডিং এ প্রচুর পয়সা খরচ করেন কিন্তু প্যকেজিং-এ একদমই মনোযোগ দেন না। অথচ-

– আপনার কাস্টমারকে স্পেশাল ফিল করানোর ভাল আইডিয়া হতে পারে আকর্ষণীয় প্যাকেজিং।
– সুন্দর প্যাকেজিং কাস্টমারের মনে আপনার ব্র্যান্ড সম্পর্কে একদম আলাদা একটা জায়গা করে নেবে, প্যাকেজিং এর মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ড ইমেজ ফুটিয়ে তোলতে পারেন।
– প্যাকেজিং প্রোডাক্ট সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে পারে।
তাই প্রোডাক্ট প্যাকেজিং এর উপর গুরুত্ব দিন।

প্রোডাক্টকে অক্ষুণ্ণ রাখতে দরকার মজবুত প্যাকেজিং, তাই প্রোডাক্ট প্যাক করতে কি ব্যাবহার করবেন তা জানুন—

পেপার এনভেলপ – হালকা পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয় পেপার এনভেলপ, প্রোডাক্ট ঢুকিয়ে পেচিয়ে দেয়া হয় এডহেসিভ টেপ দিয়ে।

Corrugated বক্স – ১০০% সেফ, কিন্তু কস্ট অনেক বেশি। ব্যলেন্সের মধ্যে থাকা ভাল তাই আপনাকে প্রোডাক্ট কস্ট আর প্যাকিং কস্টের ভেতর ব্যালেন্স আনতে হবে।

Tamper-proof ব্যাগ – লো কস্ট সল্যুশন নিয়ে এল টেম্পারপ্রুফ পলি ব্যাগ। প্যাকেট ছিড়বেনা, চুরি হবে না কিন্তু একটা সমস্যা থেকেই গেল তা হল প্রোডাক্ট আছাড় খেলে প্রটেকশন করা যাবে না।

বাবল র্যাপিং – বক্সের ভিতরের ফাঁকা জায়গা বা প্রোডাক্ট র‍্যাপ করে দিলে ভেঙ্গে যাবার সম্ভাবনা এড়ানো যাবে।

প্লেন বা প্রিন্টেড টেপ – প্লেন বা প্রিন্টেড টেপ দিয়ে ভাল মত পণ্য সিলিং করা হয়।

নরমাল রিটেইল বিজনেসের প্যাকিং আর ই-কমার্সের প্যাকিং কোনভাবেই এক নয়। আপনার প্রোডাক্ট নানান জায়গা ঘুরে কাস্টমারের কাছে পৌঁছাবে। আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে ডেলিভারির লোকজন প্যাক খুবই রাফলি হ্যান্ডেল করে। এতো এতো প্রোডাক্টের ভিড়ে শুধু আপনার প্রোডাক্টকে বিশেষভাবে হ্যান্ডল করার কোন কারণ নেই। ভেঙ্গে যেতে পারে, চুরি হতে পারে আরও কত কিছু হতে পারে।

তাই, প্যাকিং এর ক্ষেত্রে যে বিষয় গুলো খেয়াল রাখা উচিত

১। আপনার প্রোডাক্ট প্যাকেজিং এমন হতে হবে যেন এটা প্রোডাক্টের প্রটেকশন নিশ্চিত করে। যেমন- ঘড়ি, সানগ্লাস, শোপিস ইত্যাদির ক্ষেত্রে বাবল র‍্যাপিং ইউজ করতে পারেন।

২। মিস হ্যান্ডলিং দূর করতে এবং প্রোডাক্ট যেন হারিয়ে না যায় সে দিক খেয়াল রেখে প্যাকিং করতে হবে। প্যাকের গায়ে সুন্দরভাবে প্রাপকের নাম, ঠিকানা এবং প্রেরক ও প্রাপক উভয়ের ফোন নাম্বার লিখুন। ফোন নম্বরটা ভালো ভাবে লিখুন।

৩। ক্যারিং কস্ট প্যাকিং এর ওজনের সাথে বেড়ে যাবে। আধাকেজি ওজনের পণ্যের জন্য যদি আপনার এক কেজি প্যাকিং দেয়া লাগে তাহলে লস হয়ে যাবে।

৪। একটি সহজ প্যাকিং মেথড ব্যবহার করবেন। কাস্টমারের কথা চিন্তা করে প্যাক করবেন, যাতে তাদের আনপ্যাক করতে বেশি সময় ব্যয় না হয়।

৫। ওয়েদারের কথা মাথায় রেখে প্যাক করুন; যেমন বৃষ্টির দিনে প্রোডাক্ট সেইফটির জন্য পলি ব্যাগ ব্যাবহার করুন।

৬। প্যাকেজিং যেন আপনার ব্র্যান্ড ইমেজ ফুটিয়ে তোলে আর অবশ্যই আপনার জন্য ইকোনমিক হয়।

আপনি যদি নিয়মিত কুরিয়ারে পণ্য পাঠান, তাহলে কুরিয়ার কোম্পানির ক্ষতিপূরণ পলিসি কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে পরিষ্কার একটা ধারনা নিয়ে নিন।

সর্বোপরি বলব, আপনার প্রোডাক্টকে ভিন্নধারার প্যাকেজিং এর মাধ্যমে আরও আকর্ষণীয় করে তুলুন। ইন্টারনেটের যুগে একটু রিসার্চ করলেই কিন্তু প্যাকেজিং এর ইনোভেটিভ সব আইডিয়া পেয়ে যাবেন। আর এর ফলে কাস্টমার তার পরিচিত মানুষদেরও জানাবে আপনার প্রোডাক্ট সম্পর্কে। তাই এখনই প্রোডাক্ট প্যাকেজিং এর উপর গুরুত্ব দিন।

administrator

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *